বিধান শিশু উদ্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও জননেতা অতুল্য ঘোষের ১২৩ তম জন্মজয়ন্তী পালন।

বিধান শিশু উদ্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও জননেতা অতুল্য ঘোষের ১২৩ তম জন্মজয়ন্তী পালন।

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

টানা দু’দিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার কলকাতার উল্টোডাঙ্গা সংলগ্ন বিধান শিশু উদ্যানে মহাসমারোহে পালিত হলো অতুল্য ঘোষের ১২৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন।গত শুক্রবার বিধান শিশু উদ্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও জননেতা অতুল্য ঘোষের ১২৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ শ্রী সুখেন্দু শেখর রায়, প্রবীণ সাংবাদিক শ্রী মিহির গঙ্গোপাধ্যায়, ইসরোর প্রাক্তন অধিকর্তা শ্রী তপন মিশ্র, মহাকাশ বিঞ্জানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারী এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অরূপ কুমার দাস প্রমুখ । বক্তারা প্রত্যেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুল্য ঘোষের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন সময়ে ইংরেজ পুলিশের অকথ্য অত্যাচারে তাঁর শরীরের হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে সারাজীবন তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। মেদিনীপুর জেলে বন্দি অবস্থাতে ইংরেজ পুলিশ অফিসার অতুল্য ঘোষের চোখে ব্যাটন ঢুকিয়ে দিয়েছিল। জেল থেকে বেরিয়ে সুস্থ হয়ে আবার স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। স্বাধীন ভারতে পনেরো বছর তিনি লোকসভার সদস্য ছিলেন। একটা সময় সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসে শিশুদের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। নারকেলডাঙার কাছে ডা. বি. সি. রায় মেমোরিয়াল চিলড্রেনস হসপিটাল যা শুধুমাত্র এই রাজ্যের রাজ্যে একটিই সরকারি শিশু হাসপাতাল। এর পাশাপাশি তৈরি করেছিলেন বিধান শিশু উদ্যান যা এ বছর ৫০ বছর পূর্ণ করল। অতুল্য ঘোষ প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা শিশু-কিশোরদের উন্নতিকল্পে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা, নাচগান, বিদেশি ভাষা শিক্ষা সবই। অতুল্য ঘোষের জন্মদিনে সহস্রাধিক শিশু-কিশোর এবং তাদের অভিভাবক-অভিভাবিকারা অংশগ্রহণ করে। ‘বন্দে মাতরম্’ গানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, আবৃত্তি পরিবেশন করে। সবশেষে গীতি-আলেখ্য– ‘বর্ষা’ উপস্থাপন করা হয়। শনিবার জন্মোৎসব পালনের দ্বিতীয় দিনে বিধান শিশু উদ্যানের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনের পাশাপাশি বিশিষ্ট লোকশিল্পীদের দল ‘দোহারের’ গান পরিবেশন হয়।

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )