নন্দনে ‘বিনি সুতোর টান’—স্বাধীন বাংলা সিনেমার আবেগ, সত্য ও মানবিকতার নতুন অভিঘাত ( হেডলাইন )

কলকাতার সাংস্কৃতিক হৃদয়—নন্দন। বাংলা সিনেমার প্রতি মানুষের ভালোবাসা, প্রত্যাশা এবং অনুভূতির এই কেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘বিনি সুতোর টান’ ছবির এক্সক্লুসিভ প্রিমিয়ার শো।
এ দিনটি শুধু একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের দিন ছিল না; বরং এই দিনটি ছিল বাংলা স্বাধীন সিনেমার নবযাত্রার দিন—যেখানে গল্প, আবেগ ও শিল্পচেতনা একসাথে মিলেমিশে উঠে এসেছে।

তারকাপূর্ণ সন্ধ্যা—বাংলা চলচ্চিত্রের সম্মানিত মানুষদের এক মঞ্চে একত্র হওয়া
প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন বাংলা সিনেমার বহু সম্মানিত শিল্পী ও কলাকুশলী। ছিলেন
Anjan Bose,
Abhijit Banerjee,
Piyush Saha,
Priyo Chattopadhyay,
Prameet Mukherjee,
Chaitali Dutta,
Swapan Saha,
Rahul Mukherjee,
Savvy,
Neelayan Chatterjee
সহ শিল্প ও সংস্কৃতির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
তাদের উপস্থিতি শুধু সৌজন্যবোধ নয়, বরং স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রতি এক বড় সমর্থনের প্রতীক।
এক সত্য ঘটনার আবেগ—‘বিনি সুতোর টান’ কেন আলাদা?
গল্পের কেন্দ্রে এক বাবা এবং এক মেয়ে।
এক সম্পর্ক যা সময়, দূরত্ব বা অভাব কোনও কিছুর কাছে হার মানে না।

brp_del_th:null;
brp_del_sen:null;
delta:null;
module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 3145728;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: auto;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 32;
এমন এক সম্পর্ক যেখানে কেউ কাউকে আঁকড়ে ধরে না—তবুও টান থাকে, অদৃশ্য অথচ অটুট।
বাস্তব জীবনের একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজানো ‘বিনি সুতোর টান’ দর্শকদের মনে এমন কিছু মুহূর্ত ফেলে যায়, যা সিনেমা শেষ হওয়ার পরও অনেকক্ষণ হৃদয়ে বাজতে থাকে।
এ ছবির বড় শক্তি হলো নিঃশব্দ আবেগ—যা শব্দে বলা যায় না, আবার দেখেও বোঝা যায় না; শুধু অনুভব করতে হয়।
দর্শকের চোখে জল, হলে আবেগের ঢেউ
চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যটি চলার সময় পুরো হলে নেমে আসে গভীর নীরবতা—
সেই নীরবতা, যেখানে দর্শকের চোখের জলই হয়ে ওঠে সবচেয়ে সত্য প্রতিক্রিয়া।
অনেকে বাইরে এসেও নিজের অনুভূতি সামলাতে পারছিলেন না।
একজন দর্শকের কথায়—
“সিনেমা দেখে মনে হলো কোনও একটা জায়গায় আমার নিজের গল্পটাই দেখলাম।”
এই সংযোগ, এই আন্তরিকতার মুহূর্তই ‘বিনি সুতোর টান’-কে অন্যরকম একটি অভিজ্ঞতা করে তোলে।
বিশ্বজয়ের পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন—৩৬টি আন্তর্জাতিক উৎসব ও ১৫২টি পুরস্কার
‘বিনি সুতোর টান’ বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই তুমুল প্রশংসা পেয়েছে।
৫ মহাদেশের বিভিন্ন দেশে—
৩৬টি আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল
এবং ১৫২টি উল্লেখযোগ্য পুরস্কার
জয় করার পর সিনেমাটি যখন দেশে ফিরে নন্দনের পর্দায় উঠে এলো, তখন যেন সেটি শুধু একটি বাংলা সিনেমার নয়—বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও গল্প বলার শক্তির জয়।
স্বাধীন সিনেমা যে শুধু বানিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আলো ছড়ানোর সামর্থ্য রাখে—‘বিনি সুতোর টান’ তার বড় প্রমাণ।
অভিনয়ের পরিমিত শক্তি—যা গল্পকে আরও সত্য করে তোলে
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন—
Bhubaneswar De,
Jia Mukherjee,
Ayesha Bhattacharya,
Bodhisattwa Majumdar,
Payel Mukherjee
সহ আরও অনেকে।
প্রত্যেকের অভিনয় ছিল সংযত, বাস্তব এবং গভীর আবেগে মোড়া।
তারা চরিত্রকে অভিনয় করেননি—বরং চরিত্রই হয়ে উঠেছিলেন।
ছয় বছর পর নির্মাতার ফিরে আসা—আরও পরিণত, আরও মানবিক
পরিচালক Satyajit Das এর পূর্ববর্তী ছবি ‘Paintings in the Dark’—যা এক অন্ধ চিত্রশিল্পীর অনুভবনির্ভর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত—২০২০ সালে প্রশংসা পেয়েছিল এবং বর্তমানে Amazon Prime Video–এ স্ট্রিমিং হচ্ছে।
ছয় বছরের বিরতির পর তার ফিরে আসা যেন আরও পরিণত, আরও গভীর বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দিল।
‘বিনি সুতোর টান’ শুধু তার নির্মাণকলার বিকাশ নয়—এটি একজন শিল্পীর মানসিক যাত্রার ফল।
দর্শক + সাধারণ মানুষ + সাংবাদিক = ত্রিমুখী প্রশংসা
প্রিমিয়ারে সাধারণ দর্শক, সংবাদমাধ্যম এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সমানভাবে প্রশংসা করেছেন।
এমন বিরল দৃশ্য, যেখানে তিনটি আলাদা শ্রেণির দর্শক একইভাবে একমত—
“এটি অবশ্যই অভিজ্ঞতার মতো একটি সিনেমা।”
২৭ ফেব্রুয়ারি—একটি বিশেষ দিন বাংলা ছবির জন্য
‘বিনি সুতোর টান’ আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে।
স্বাধীন বাংলা সিনেমার সমর্থক, মানবিক গল্পের প্রতি অনুরাগী এবং ভালো চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি কাজ।
শেষ কথা—অদৃশ্য সুতোর স্পর্শ
‘বিনি সুতোর টান’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
জীবনের অনেক গভীর সম্পর্ক দৃশ্যমান নয়।
সেগুলো টিকে থাকে না শব্দে, না প্রতিশ্রুতিতে—
বরং টিকে থাকে অনুভূতির অদৃশ্য সুতোর ওপর।
এ সিনেমা সেই সুতোর গল্প।
সেই টান, যা কেবল হৃদয়েই অনুভব করা যায়।
