আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করল মণিপাল হসপিটালস কলকাতাসম্মান জানানো হল নারী নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণাদায়ী সংগ্রামীদের।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করল মণিপাল হসপিটালস কলকাতাসম্মান জানানো হল নারী নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণাদায়ী সংগ্রামীদের।

কলকাতা, ৭ মার্চ ২০২৬ : নেতৃত্ব, সাহস এবং সংগ্রামজয়ের অনুপ্রেরণাদায়ী নানা গল্পকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করল মণিপাল হসপিটালস কলকাতা। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের সম্মান জানাতে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী নেতৃত্ব, চিকিৎসক এবং গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা রোগীরা। তাঁদের সাফল্য, জীবনসংগ্রাম এবং অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তাও তুলে ধরা হয়।


এই উপলক্ষে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য একাধিক বিশিষ্ট নারীকে সম্মাননা জানানো হয়। সম্মানপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন জেসিকা গোমেস সুরানা, প্রিন্সিপাল, বিড়লা হাই স্কুল মুকুন্দপুর; নেহা সিংহ এবং রুহি সিংহ, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (ডা.); স্মিতা রায় চৌধুরী, একটি খ্যাতনামা সংবাদপত্রের জনপ্রিয় বিনোদন সংযোজনের সম্পাদক; এবং ডা. অঞ্জনা মালহোত্রা, প্রিন্সিপাল চিফ মেডিক্যাল ডিরেক্টর, সেন্ট্রাল হসপিটাল, সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে, কলকাতা।


অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা, যেখানে উপস্থিত নারী নেতৃবৃন্দ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং কর্মজীবনে নারীদের সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত ভাগ করে নেন। আলোচনায় উঠে আসে কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশের প্রয়োজনীয়তা, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার চাপের মতো বিষয়গুলি।
শহরের বিভিন্ন ইউনিট থেকে মণিপাল হসপিটালস-এর চিকিৎসকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সমাজে নারীদের অবদানের জন্য তাঁদের সম্মান জানান। ব্রডওয়ে, ঢাকুরিয়া, ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর এবং সল্টলেক ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অর্থোপেডিক্স, অনকোলজি, নেফ্রোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, নিউরোসার্জারি, কার্ডিওলজি এবং প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন।
ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. অরিন্দম মন্ডল, কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল অনকোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস (যিনি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন), বলেন, “বর্তমানে ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেকটাই উন্নত হয়েছে, কিন্তু সফল চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় নারীরা প্রথম উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করেন, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা রোগীদের আত্মবিশ্বাস ও আশার সঙ্গে রোগের মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।”
পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. সঞ্জয় বসু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর বলেন, “অনেক সময় পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিন নীরবে এগিয়ে যায় এবং পরে গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষ করে নারীরা নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক সময় হজমজনিত সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা ভবিষ্যতের জটিলতা প্রতিরোধ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।”
নারীদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. পলি চট্টোপাধ্যায়, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, মণিপাল হসপিটাল সল্টলেক বলেন, “নারীদের স্বাস্থ্য শুধুমাত্র গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত গাইনোকলজিক্যাল পরীক্ষা, হরমোনজনিত স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা এবং সময়মতো স্ক্রিনিং অনেক গুরুতর সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে পারে। যখন নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন এবং সময়মতো চিকিৎসা পরামর্শ নেন, তখন তা শুধু তাঁদের জন্যই নয়, পুরো পরিবারের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।”
অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও অনুপ্রেরণাদায়ী মুহূর্ত তৈরি হয় যখন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাকে সাহসের সঙ্গে জয় করা কয়েকজন নারী রোগীকেও সম্মান জানানো হয়। তাঁরা তাঁদের সংগ্রাম, সাহস এবং সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে প্রফেসর দেবশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসে ডা. অরিন্দম মন্ডলের তত্ত্বাবধানে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছেন, বলেন, “ক্যান্সার ধরা পড়ার মুহূর্তটি আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সময় ছিল। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমাকে সাহস এবং মানসিক দৃঢ়তার মূল্য বুঝিয়েছে। চিকিৎসক এবং পরিবারের সমর্থনে আমি দৃঢ় মনোবল নিয়ে চিকিৎসার পথ পার করতে পেরেছি। আজ আমি আগের থেকে অনেক বেশি শক্ত এবং আশা করি আমার এই অভিজ্ঞতা অন্যদেরও কঠিন সময়ে আশাবাদী থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।”

নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অরুণিমা চক্রবর্তী, যিনি মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুরে ডা. সঞ্জয় বসুর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন, বলেন, “হঠাৎ করে একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হওয়া প্রথমে খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু চিকিৎসকের যত্ন, সঠিক পরামর্শ এবং আশ্বাস পুরো সময়টায় আমাকে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করেছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে সঠিক চিকিৎসা সহায়তা এবং ইতিবাচক মনোভাব থাকলে সবচেয়ে কঠিন স্বাস্থ্য সমস্যাও জয় করা সম্ভব।”
এই আয়োজনের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা আবারও সমাজকে অনুপ্রাণিত করা নারীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি নারীদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল।

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )